যশোরে গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আগস্ট ২২, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ২২/০৮/২০২৫ তারিখ বেলা ৩ থেকে ৬ ঘটিকা পর্যন্ত টাউন হল ময়দানে গণ অধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি এ বি এম আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১৮ এর কোটা সংস্কার থেকে ২৪ এর রাষ্ট্র সংস্কারের স্মৃতিচারণ এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নুরুল হক নুর,ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সভাপতি গণ অধিকার পরিষদ, জনাব মোঃ রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক, গণ অধিকার পরিষদ ,জনাব আশিক ইকবাল, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক(খুলনা),গন অধিকার পরিষদ, কেন্দ্রীয় সংসদ সহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বক্তা: জনাব মোঃ রাশেদ খান সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি):- যশোর জেলায় আমাদের নেতৃবৃন্দরা ২০১৮ সাল থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বিএনপি জামায়াত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যখন ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে দাড়াতে পারি নি তখন গণ অধিকার পরিষদ রাজপথে ছিলো। ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান যদি না হতো তাহলে আমরা আজকে এইখানে দাড়াতে পারতাম না। যে উদ্দেশ্যে আন্দোলন হয়েছিলো সেই উদ্দেশ্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। বাংলাদেশের জনগন জানে গণ অধিকার পরিষদ ২৪ এর আন্দোলনে কি ভূমিকা রেখেছিলো। আমাদের নেতাদের যখন গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি করা হয় তখন ভিপি নূর বলেছিলো এই সরকারের পতন ৯০% হয়ে গেছে। দেশের জনগনের দাবি সুস্ঠ ও সুন্দর নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে জামায়ত বিএনপি ও এনসিপি সহ সকল দল তাদের নিজ নিজ মন্তব্য পেশ করেছে। সেই আলোকে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মান করা হবে। শেখ হাসিনা দিল্লী পালিয়ে গেছে, তিনি যদি দেশে আসেন তাহলে এদেশে দূর্বত্তায়নের রাজনীতি আবারও ফিরে আসবে। বাংলাদেশে তারা যে অত্যাচার নির্যাতন করেছে এর বিচার না করা পর্যন্ত তাদের সাথে কোন আপোষ নাই। আমাদের ভিতরে আজকে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা যদি একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেই তাহলে হাসিনা দিল্লী বসে সুযোগ পেয়ে যাবে। এখনো সরকার বিগত সরকারের ডিসি এসপিদের বিচারে আনে নাই। আমি এক বক্তব্যে বলেছিলাম এই সরকার হাসিনার পরামর্শে দেশ চালাচ্ছে। পুলিশ ডিসি এসপিদের স্বপদে বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নই। অন্তর্বত্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন সচিবালয় সংস্কার করুন, পুলিশে সংস্কার করুন, নির্বাচনের আর মাত্র ৪ মাস সময় আছে। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আগামী নির্বাচনে আমাদের সুযোগ দিলে আমরা খুলনা বিভাগের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আগামীতে যদি আমরা ক্ষমাতয় যায় তাহলে খুলনা বিভাগকে নিউইয়র্ক লন্ডনের মতো উন্নয়ন করবো।

প্রধান অতিথি: জনাব নুরুল হক নুর ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সভাপতি, গন অধিকার পরিষদ (জিওপি):- তুলনামূলক ভাবে অন্যান্য জেলার চেয়ে শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য সকল ব্যবস্থাপনায় যশোর এগিয়ে আছে। তবুও ভালোর কোন শেষ নেই। বাংলাদেশে বিগত সময় গুলোই আমরা দূর্বত্তায়নের রাজনীতি দেখেছি। একজন ব্যক্তি ৮/১০ কোটি টাকা খরচ করপ এমপি নির্বচন করে ২০/২৫ কোটি টাকা কামানোর জন্য। বাংলাদেশে কালো টাকা পেশী শক্তির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে লুটেরা নাবিল গ্রুপ দেশের টাকা সিঙৃগাপুর আমেরিকায় পাচার করেছে। বাংলাদেশে যে জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায় তা আর কমে না। অন্তর্বতী সরকারের নিকট আমরা আশা করেছিলাম দ্রব্য মূল্যের মূল্য কমাবেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে দেখলাম সরকার সেটা করতে পারে নাই। অনেকে উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবি তুলছে, কিন্তু একজন উপদেষ্টাও পদত্যাগ করে নাই। কারণ ক্ষমতাকো সবাই উপভোগ করতে চাই। গণ অধিকার পরিষদ ১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছে। যশোরের আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসি শাহিন চাকলাদার যিনি যশোরে আতংকের রাজনীতিতে পরিনত করেছিলো। সেই শাহিন শাহীন চাকলাদার আজকে কোথায়। আজকে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন আপনারা পতিত সৈরাচার সরকারের অবস্থা দেখে শিক্ষা নিন। রাজনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে জমিদার প্রথা চালু করেছিলো। আমরা জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে সেই জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করেছি। পুলিশ সহ অন্যান্য সকল সংস্থায় স্বচ্ছ পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে আমাদের সুযোগ এসেছে রাষ্ট্র সংস্কারের। রাষ্ট্র সংস্কার না করে কোন নির্বাচন হবে না। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাআন দিতে হবে। ক্ষমতায় যারা একা যেতে চান,ক্ষমতার সর যারা একা খেতে চান, হাসিনাকে দেখে শিক্ষা নিন। গোপালগঞ্জে এনসিপির উপর হামলা হয়েছে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রক্ষা করেছিলো। আপনাদের নেত্রী দিল্লী পালিয়ে গেছে তাহলে কিসের ভিত্তিতে আস্ফালন দেখান। আমি একসময় বলেছিলাম মুজিব কোর্ট কেনার লোক পাওয়া যাবে না, বর্তমানে তার বাস্তবতা মেলায় নেন। আওয়ামী লীগ এদেশের রাজনীতিতে আর ঘুরে দাড়াবে না, মরা প্রানে আর জান ফিরবে না। আওয়ামী লীগ এদেশের রাজনীতিতে ফিরলে দেশকে নরকে পরিনত করবে। বিএনপি জামায়াতের মধ্যে বিভেদ আছে ঠিকই কিন্তু আওয়ামীগের বিরুদ্ধে আমরা এক। আওয়ামী লীগ এখন অচল মাল,অচল মাল আর সচল হবে না। যারা আওয়ামী লীগ করতেন তারা মাফ চেয়ে অন্য রাজনীতিক দল করেন। সকল রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে ঐক্যমত থাকার আহবান জানান।

মন্তব্য করুন